eProbash ভিসা

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা বেতন কত?

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা বেতন কত
Written by eProbash

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরব একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য। এর একটি প্রধান কারণ হলো কোম্পানি ভিসা। আপনি যদি সৌদি আরবে কাজ করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে আপনি কোম্পানি ভিসার কথা বিবেচনা করতে পারেন। সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা বেতন কত হয় তা এই ব্লগে আমরা তুলে ধরেছি।

কোম্পানি ভিসা কী?

কোম্পানি ভিসা হলো এমন একটি ওয়ার্ক ভিসা যা একজন কর্মীকে সৌদি আরবের কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে কাজ করার অনুমতি দেয়। এই ভিসা পেতে আপনাকে অবশ্যই সৌদি আরবের কোনো কোম্পানি থেকে চাকরির প্রস্তাব বা ‘অফার লেটার’ পেতে হবে। এটি সাধারণত একটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসা যা আপনাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সৌদি আরবে কাজ করতে এবং বসবাস করার সুযোগ দেয়।

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা বেতন কত?

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা গুলোর বেতন কত হবে তা অনেকটা নির্ভর করে কাজের ধরণ ও পদের উপর। অর্থাৎ, আপনি কী ধরণের কাজের জন্য ভিসার এপ্লাই করেছেন এবং কোন পদের জন্য ভিসা পেয়েছেন তা বুঝতে হবে।

১. কাজের ধরন/পদ: আপনি কী ধরনের কাজ করতে যাচ্ছেন, তার ওপর বেতন অনেক বেশি নির্ভর করে। দক্ষ পেশাজীবী (যেমন – ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইটি স্পেশালিস্ট, ম্যানেজার) এবং অদক্ষ শ্রমিকদের বেতনে অনেক পার্থক্য থাকে।

২. অভিজ্ঞতা: আপনার কাজের অভিজ্ঞতা যত বেশি হবে, বেতনও তত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. কোম্পানির ধরন ও আকার: ছোট বা স্থানীয় কোম্পানির চেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সাধারণত বেশি বেতন দিয়ে থাকে।

৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা: উচ্চ শিক্ষিত কর্মীদের বেতন সাধারণত বেশি হয়।

৫. চুক্তির শর্ত: চুক্তিপত্রে থাকা বেতন, আবাসন, যাতায়াত, ওভারটাইম ইত্যাদির শর্তের উপর মোট বেতন অনেকটা নির্ভর করে।

৬. ভিসার ধরন: “ফ্রি ভিসা” বা সাপ্লাই কোম্পানির ভিসার ক্ষেত্রে অনেক সময় বেতন কম থাকে এবং অনিশ্চয়তা বেশি থাকে। কিন্তু সরাসরি কোম্পানির ভিসায় সাধারণত ভালো বেতন ও সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।

বেতনের সাধারণ ধারণা:

সাধারণ শ্রমিক (অদক্ষ): সৌদি আরবে একজন সাধারণ শ্রমিক প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা (প্রায় SAR ১,১২৫ – SAR ৩,৭৫০) পর্যন্ত উপার্জন করতে পারে। তবে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম হয়। কিছু ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন প্রায় ৩৫,০০০ টাকা (প্রায় SAR ১,৩০০) পর্যন্ত হতে পারে।

বিভিন্ন পেশার সম্ভাব্য বেতন (মাসিক, সৌদি রিয়াল):

  • অ্যাকাউন্ট্যান্ট: SAR ৭,০০০ – SAR ১১,০০০ (জুনিয়র), SAR ১৮,০০০ – SAR ৩০,০০০+ (সিনিয়র)
  • আইটি স্পেশালিস্ট: SAR ৮,০০০ – SAR ১৩,০০০ (জুনিয়র), SAR ২২,০০০ – SAR ৪০,০০০+ (সিনিয়র)
  • ইঞ্জিনিয়ার: SAR ৯,০০০ – SAR ১৫,০০০ (জুনিয়র), SAR ২৫,০০০ – SAR ৫০,০০০+ (সিনিয়র)
  • অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট: SAR ৫,০০০ – SAR ৮,০০০
  • ড্রাইভার: গড় SAR ৩,১১৫
  • ক্লিনার/শ্রমিক: SAR ২,৪০০ – SAR ৩,৬০০ এর মধ্যে হতে পারে।
  • হোটেল কর্মী: ন্যূনতম SAR ১,৩০০ (সাথে ওভারটাইম থাকলে বাড়বে)।
  • ইলেকট্রিশিয়ান: ন্যূনতম SAR ১,৩৫০।

সৌদি আরবে সৌদি নাগরিকদের জন্য বেসরকারি খাতে ন্যূনতম মাসিক মজুরি SAR ৪,০০০ নির্ধারিত আছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নেই; এটি সাধারণত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তবে অনেক কোম্পানি বেতনের পাশাপাশি আবাসন ভাতা, যাতায়াত ভাতা, বার্ষিক বোনাস ইত্যাদি সুবিধা দিয়ে থাকে, যা মোট উপার্জনকে বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু “সাপ্লাই কোম্পানি” বা “ফ্রি ভিসা”র নামে অনেক সময় শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার হন। এক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ বা বেতন না পাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাই সরাসরি ভালো কোম্পানির ভিসার জন্য চেষ্টা করা উচিত।

আবার ভিসা পাওয়ার পর সৌদিতে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদির ভিসাটি অনলাইনে চেক করে নেবেন। তাহলে প্রতারিত হবেন না ইনশাআল্লাহ।

About the author

eProbash

প্রবাসীদের প্রতি অকৃত্রিম হৃদয়ের টান, তাদের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরে গর্ববোধ করি।

Leave a Comment