মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত সৌদি আরব, শুধু দুটি পবিত্র মসজিদের দেশ হিসেবেই পরিচিত নয়, বরং এর রয়েছে এক জীবন্ত ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া একটি আধুনিক রাষ্ট্র। এই ব্লগ থেকে আজ আমরা সৌদি আরবের আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করবো।
সৌদি আরবের মোট আয়তন কত?
সৌদি আরবের মোট আয়তন ২১,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার (২.১৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার)। এই বিশাল আয়তনের কারণে সৌদি আরব এশিয়ার বৃহত্তম আরব দেশ এবং আলজেরিয়ার পর আরব বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত। মুসলিম বিশ্বে এর স্থান কাজাখস্তান ও আলজেরিয়ার পরেই, অর্থাৎ তৃতীয় বৃহত্তম।
এই বিশাল ভূখণ্ড মূলত মরুভূমি দ্বারা গঠিত। দেশের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে “রুব আল-খালী” নামক সুবিশাল মরুভূমি, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বালির মরুভূমি। তবে, দেশের পশ্চিমাংশ তুলনামূলকভাবে উর্বর।
ঐতিহাসিকভাবে, সৌদি আরব মূলত পাঁচটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ একত্রিত করে আধুনিক সৌদি আরব সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই অঞ্চলগুলো হলো:
- মধ্যাঞ্চলীয় আরব নজদ: এই অঞ্চলটি সৌদি আরবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
- উত্তরাঞ্চলীয় আরব আরার: এটি সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় অংশ।
- দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব আসির: এই অঞ্চলটি সৌদি আরবের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত এবং এর ভূখণ্ড কিছুটা পার্বত্য।
- পূর্বাঞ্চলীয় আরব আহসা: এটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং তেল সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
- পশ্চিমাঞ্চলীয় আরব হেজাজ: এই অঞ্চলটি লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এবং ইসলামের দুটি পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনা এখানেই অবস্থিত।
এই পাঁচটি অঞ্চল একত্রিত হয়ে বিশাল সৌদি আরব রাষ্ট্রের ভৌগোলিক কাঠামো তৈরি করেছে, যার মোট আয়তন ২১,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
সৌদি আরবের রাজধানীর নাম কি?
সৌদি আরবের বর্তমান রাজধানী হলো রিয়াদ। তবে দেশটির ইতিহাসে প্রথম রাজধানী ছিল দিরিয়াহ, যা ১৭১৭ থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল। উসমানীয়দের আক্রমণে দিরিয়াহ ধ্বংস হলে, দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ১৮২৪ সালে রিয়াদকে নির্বাচিত করেন তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আল-সৌদ।
কিছু অস্থিরতা পেরোনোর পর, আল-সৌদ পরিবার রিয়াদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। অবশেষে, ১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠিত হলে রিয়াদ স্থায়ীভাবে দেশটির রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সেই থেকে রিয়াদ সৌদি আরবের প্রধান রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে তার গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
সৌদি আরবের মুদ্রার নাম কি?
সৌদি আরবের মুদ্রার নাম হলো সৌদি রিয়াল (Saudi Riyal)। এর প্রতীক হলো ر.س অথবা সংক্ষেপে SAR বা SR লেখা হয়। এক সৌদি রিয়ালে ১০০ হালালা (Halala) থাকে, যা এর ক্ষুদ্র একক। বর্তমানে (এপ্রিল ৮, ২০২৫), সৌদি আরবের এক রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৩২.৩৫ থেকে ৩২.৪০ টাকা (কমবেশি) এর সমান।
সৌদি আরবের প্রদেশ কয়টি?
সৌদি আরব মোট ১৩টি প্রদেশ দিয়ে গঠিত। উক্ত প্রদেশ গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা নিচে তুলে ধরা হলো –
১. রিয়াদ প্রদেশ (منطقة الرياض):
সৌদি আরবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রিয়াদ প্রদেশ দেশটির রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর। এটি দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। আধুনিক স্থাপত্য, ঐতিহাসিক স্থান এবং দ্রুত নগরায়নের এক মিশ্রণ দেখা যায় এখানে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রধান কার্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এই প্রদেশেই অবস্থিত।
- পড়ুন: সৌদি আরবের কোম্পানি নাম (প্রবাসীদের জন্য)
২. মক্কা প্রদেশ (منطقة مكة المكرمة):
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম স্থান কাবা শরীফ এবং মসজিদুল হারাম এই প্রদেশেই অবস্থিত। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম হজ ও উমরাহ পালনের জন্য এখানে সমবেত হন। মক্কা প্রদেশের অর্থনীতি মূলত ধর্মীয় পর্যটন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলোর উপর নির্ভরশীল। এর আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. মদিনা প্রদেশ (منطقة المدينة المنورة):
ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববী এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর রওজা মোবারক মদিনা প্রদেশেই অবস্থিত। মক্কা প্রদেশের মতোই মদিনাও মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত একটি স্থান এবং এর অর্থনীতি মূলত ধর্মীয় পর্যটনের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এখানকার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহু শতাব্দী ধরে মুসলিমদের আকর্ষণ করে আসছে।
৪. পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ (المنطقة الشرقية):
পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই প্রদেশটি সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকো-র সদর দপ্তর এখানেই। এই অঞ্চলের অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে খনিজ তেল এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর উপর নির্ভরশীল। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও বন্দরও রয়েছে।
৫. কাসিম প্রদেশ (منطقة القصيم):
সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কাসিম প্রদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। খেজুর, গম এবং অন্যান্য বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে এই প্রদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এখানকার উর্বর ভূমি এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা এটিকে দেশের খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৬. হা’ইল প্রদেশ (منطقة حائل):
উত্তর-মধ্য সৌদি আরবের এই প্রদেশটি তার ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। একসময় বাণিজ্য কাফেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল হা’ইল। এখানকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক দুর্গগুলো আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
৭. তাবুক প্রদেশ (منطقة تبوك):
সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত তাবুক প্রদেশ তার মনোরম উপকূলীয় এলাকা এবং ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর জন্য পরিচিত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৌশলগত অবস্থান এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে পরিণত করেছে।
৮. উত্তর সীমান্ত প্রদেশ (منطقة الحدود الشمالية):
ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই প্রদেশটি মূলত একটি সমতল মরুভূমি অঞ্চল। এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে এটি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৯. জাযান প্রদেশ (منطقة جازان):
ইয়েমেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জাযান প্রদেশ তার উর্বর ভূমি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে আম, পেঁপে এবং কফির মতো বিভিন্ন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল উৎপাদিত হয়। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী হওয়ায় মৎস্য শিল্পও এখানকার অর্থনীতির একটি অংশ।
১০. নাজরান প্রদেশ (منطقة نجران):
ইয়েমেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নাজরান প্রদেশ তার প্রাচীন ইতিহাস এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। এখানকার পাহাড়ী ভূখণ্ড এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য প্রদেশটিকে একটি বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
১১. আল-বাহা প্রদেশ (منطقة الباحة):
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আল-বাহা প্রদেশ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানকার সবুজ পাহাড়, উপত্যকা এবং মনোরম জলবায়ু এটিকে একটি জনপ্রিয় অবকাশ যাপন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
১২. আল-জাওফ প্রদেশ (منطقة الجوف):
সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত আল-জাওফ প্রদেশ তার ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং উর্বর ভূমির জন্য পরিচিত। এখানে জলপাই এবং খেজুরের বাগান উল্লেখযোগ্য। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক।
১৩. আসির প্রদেশ (منطقة عسير):
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পার্বত্য এলাকা নিয়ে গঠিত আসির প্রদেশ তার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এখানকার উঁচু পাহাড়, সবুজ উপত্যকা এবং শীতল আবহাওয়া এটিকে অন্যান্য মরুভূমি অঞ্চলের থেকে আলাদা করেছে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সৌদি আরবের জেলা কয়টি?
সৌদি আরব প্রশাসনিকভাবে ১৩টি প্রদেশ (মানতিকা)-এ বিভক্ত, এবং এই প্রদেশগুলো আবার ১১৮টি গভর্নরেট (মুহাফাজাহ)-এ বিভক্ত। এই গভর্নরেটগুলোকেই সাধারণভাবে সৌদি আরবের “জেলা” হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতিটি গভর্নরেটের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে এবং এগুলো প্রদেশের গভর্নরের অধীনে পরিচালিত হয়।
১. রিয়াদ প্রদেশ (منطقة الرياض):
সৌদি আরবের বিয়াদ প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- রিয়াদ (الرياض)
- আল খারজ (الخرج)
- আল দাওয়াদমি (الدوادمي)
- আল মাজমা’আ (المجمعة)
- আল কুয়াইয়াহ (القويعية)
- ওয়াধি আদ-দাওয়াসির (وادي الدواسر)
- আল আফলাজ (الأفلاج)
- আয-যুলফি (الزلفي)
- শাকরা (شقراء)
- রিমাহ (رماح)
- থাদিক (ثادق)
- আল ঘাত (الغاط)
- আল হারিক (الحريق)
- আল হুতা (الحوطة)
- আল হাসিনিয়াহ (الحصينية)
- আল মারাত (مرات)
- আল উয়ুন (العيون)
- আল বিদা’ (البدع)
- আল মুজাহিমিয়াহ (المزاحمية)
- দারমা (ضرما)
- দুরা (درماء)
- জাবাল তামিয়াহ (جبلة طمية)
- আল গাইয়াহ (الغيل)
২. মক্কা প্রদেশ (منطقة مكة المكرمة):
সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- মক্কা (مكة المكرمة)
- জেদ্দা (جدة)
- তায়েফ (الطائف)
- আল কুনফুদা (القنفذة)
- আল লাইথ (الليث)
- রাবিঘ (رابغ)
- আল খুরমাহ (الخرمة)
- রানিয়াহ (رنية)
- আল জামুম (الجموم)
- বাহরা (بحرة)
- আল কামিল (الكامل)
- আল মুয়াহ (المويه)
- আদহাম (أضم)
- আল আরদিয়াত (العرضيات)
- মেইসান (ميسان)
৩. মদিনা প্রদেশ (منطقة المدينة المنورة):
সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- মদিনা (المدينة المنورة)
- ইয়ানবু (ينبع)
- আল-উলা (العلا)
- আল মাহদ (المهد)
- বদর (بدر)
- খাইবার (خيبر)
- আল হুনাকিয়াহ (الحناكية)
- রাবিঘ (رابغ)
- আল ইস (العيس)
- ওয়াদি আল ফুরা’ (وادي الفرع)
- সুরাইয়াহ (السويرقية)
৪. পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ (المنطقة الشرقية):
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- দাম্মাম (الدمام)
- আল আহসা (الأحساء)
- হাফার আল-বাতিন (حفر الباطن)
- আল জুবাইল (الجبيل)
- আল কাতিফ (القطيف)
- আল খোবার (الخبر)
- রাস তানুরা (رأس تنورة)
- আবকাইক (بقيق)
- আল কারইয়াত আল উলইয়া (القرية العليا)
- আল নু’ইরিয়াহ (النعيرية)
- আল খাফজি (الخفجي)
- আল উধাইলিয়াহ (العضيلية)
- ফুরসান (فرسان)
৫. কাসিম প্রদেশ (منطقة القصيم):
সৌদি আরবের কাসিম প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- বুরাইদা (بريدة)
- উনাইজা (عنيزة)
- আর রাস (الرس)
- আল মিদনাব (المذنب)
- আল বুকারিয়া (البكيرية)
- আল খবুরা (الخبراء)
- আল রিয়াদ (الرياض)
- আল আসিয়াহ (الأسياح)
- আল বাদাই’ (البدائع)
- উয়ুন আল জাওয়া (عيون الجواء)
- আল শামাসিয়াহ (الشماسية)
- আল ফারসিয়াহ (الفرسية)
৬. হা’ইল প্রদেশ (منطقة حائل):
সৌদি আরবের হা’ইল প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- হা’ইল (حائل)
- বাক’আ (بقعاء)
- আল-গাজালা (الغزالة)
- আশ-শিনান (الشنان)
- আল-সুমাইরা (السميراء)
- আল-মুয়াকা (الموقق)
- আল-হায়িত (الحائط)
- খাফার আস-সাওাক (خفر السواق)
৭. তাবুক প্রদেশ (منطقة تبوك):
সৌদি আরবের তাবুক প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- তাবুক (تبوك)
- আল-ওয়াজ (الوجه)
- দুবা (ضباء)
- তাইমা (تيماء)
- আল-বাদ’ (البدع)
- হাকল (حقل)
- উমলাজ (أملج)
৮. উত্তর সীমান্ত প্রদেশ (منطقة الحدود الشمالية):
সৌদি আরবের উত্তর সীমান্ত প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- আরার (عرعر)
- রাফা (رفحاء)
- তুরাইফ (طريف)
৯. জাযান প্রদেশ (منطقة جازان):
সৌদি আরবের জাযান প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- জাযান (جازان)
- সাবিয়া (صبيا)
- আবু আরিশ (أبو عريش)
- সামতাহ (صامطة)
- আল হারথ (الحرث)
- আল দায়ের (الداير)
- আল রাইথ (الريث)
- ফারাসান (فرسان)
- আল আইদাবি (العيدابي)
- বাইশ (بيش)
- আদ দারব (الدرب)
- আহাদ আল মাসারিয়াহ (أحد المسارحة)
- আল মুসাইম (الموسم)
- আল তুব (الطوال)
- আল আরদাহ (العارضة)
- আল মিখলাফ (المخلاف)
১০. নাজরান প্রদেশ (منطقة نجران):
সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- নাজরান (نجران)
- শারুরা (شرورة)
- হুবুনা (حبونا)
- বাদর আল-জানুব (بدر الجنوب)
- ইয়াদমাহ (يدمة)
- থা’র (ثار)
- খুবাশ (خباش)
- আল খারখির (الخرخير)
১১. আল-বাহা প্রদেশ (منطقة الباحة):
সৌদি আরবের আল-বাহা প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- আল-বাহা (الباحة)
- বালজুরাশি (بلجرشي)
- আল-মান্দাক (المندق)
- আল-মাখওয়া (المخواة)
- আল-আকিক (العقيق)
- ক্বালওয়াহ (قلوة)
- আল কারাহ (القرى)
- আল-মিখলাফ (المخلاف)
- আল-হাজরা (الحجرة)
১২. আল-জাওফ প্রদেশ (منطقة الجوف):
সৌদি আরবের আল-জাওফ প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- সাকাকা (سكاكا)
- আল-কুরাইয়াত (القريات)
- দুমাত আল-জান্দাল (دومة الجندل)
১৩. আসির প্রদেশ (منطقة عسير):
সৌদি আরবের আসির প্রদেশের মধ্যে যেসব জেলা অবস্থিত তা নিচে তুলে ধরা হলো: –
- আবহা (أبها)
- খামিস মুশাইত (خميس مشيط)
- বিশা (بيشة)
- আল-নামাস (النماص)
- মুহায়েল (محايل)
- আসির (عسير)
- আল-হারিদা (الحرجة)
- আল-আহাদ (الأحد)
- আল-ফারায়েশ (الفرشة)
- বারিক (بارق)
- তানুমাহ (تنومة)
- আল-মাজরিদাহ (المجاردة)
- রাইদাহ (ريدة)
- আল-উয়ুন (العيون)
- থুলুথ আল মানাদারাহ (ثلوث المنظر)
- আল-বাহাহ (الباحة)
Note: সৌদি আরবের প্রবেশ ভিত্তিক জেলা সমূহের এই তালিকাটি বিভিন্ন অনলাইন উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের জনসংখ্যা কত?
বর্তমানে (এপ্রিল ২০২৫) সৌদি আরবের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষের মধ্যে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সৌদি আরবের নিজস্ব সরকারি পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকস (GASTAT)-এর মধ্য-২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ জন। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র, যেমন ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং ট্রেডিং ইকোনমিক্সের সাম্প্রতিক প্রাক্কলনেও কাছাকাছি সংখ্যা দেখা যায়।
গ্লোবাল মিডিয়া ইনসাইটের এপ্রিল ২০২৫ সালের প্রাক্কলন কিছুটা বেশি, প্রায় ৩ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬০ হাজার। ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে এই সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩২ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৯২ জন।
এসব তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে সৌদি আরবের জনসংখ্যা সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে। তবে বিভিন্ন উৎসের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কারণ জনসংখ্যা একটি পরিবর্তনশীল বিষয় এবং এর সঠিক হিসাব করা কঠিন। অতএব, সাধারণভাবে বলা যায় যে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সৌদি আরবের জনসংখ্যা সাড়ে তিন কোটির বেশি এবং সম্ভবত সাড়ে তিন কোটি থেকে পৌনে চার কোটির মধ্যে অবস্থান করছে।
সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় কত?
সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। তবে, সাধারণভাবে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী দেশটির মাথাপিছু আয় বেশ উল্লেখযোগ্য। কিছু নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (২০২৩): এই তথ্য অনুসারে সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় ছিল ৩২,০৯৪ মার্কিন ডলার।
- ম্যাক্রো trends (২০২৩): এই ওয়েবসাইট অনুসারে সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় ছিল ২৮,৮৯৫ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫.১% কম। ২০২২ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৩০,৪৪৮ মার্কিন ডলার।
- ফোকাস ইকোনমিক্স (২০২৩): এই সূত্র অনুযায়ী সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় ছিল ৩২,৫১৪ মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩২,৪০৩ মার্কিন ডলার হতে পারে।
- ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (IMF) (২০২৫ প্রাক্কলন): আইএমএফ-এর অক্টোবর ২০২৪ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় ৩৩,২৯০ মার্কিন ডলার হতে পারে।
সুতরাং, বিভিন্ন তথ্য উৎসের উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, বর্তমানে সৌদি আরবের মাথাপিছু আয় ৩২ হাজার থেকে ৩৩ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে রয়েছে। এটি একটি উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দেশ হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থানকে তুলে ধরে।
সৌদি আরবের বাদশাহ / সৌদি আরবের যুবরাজ কে?
সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ হলেন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। তিনি ২৩ জানুয়ারী ২০১৫ ইং সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ হলেন মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। তিনি ২১ জুন ২০১৭ সালে যুবরাজ পদে নিযুক্ত হন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী পদও অধিষ্ঠিত আছেন, যা তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে গ্রহণ করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যাপকভাবে দেশটির কার্যত শাসক হিসেবে বিবেচিত।
