মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ হলো সৌদি আরবের যুবরাজ এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৩১ আগস্ট ১৯৮৫ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৌদি আরবের সপ্তম বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং মাতা ফাহদা বিনতে ফালাহ বিন সুলতান বিন হাতলিন।
সৌদি আরবের যুবরাজের শিক্ষা ও কর্মজীবন:
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২০১১ সালে তিনি তার পিতার বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন।
- পড়ুন: সৌদি আরবের কোম্পানি নাম (প্রবাসীদের জন্য)
২০১৩ সালে তিনি যুবরাজ আদালতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তার পিতা বাদশাহ হওয়ার পর তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উপ-যুবরাজ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৭ সালে তিনি যুবরাজ পদে উন্নীত হন। ২০২২ সালে তিনি সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।
সৌদি যুবরাজের স্ত্রী ও ব্যক্তিগত জীবন:
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০০৮ সালে প্রিন্সেস সারা বিনতে মাশহুর বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদকে বিয়ে করেন। তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাদের নাম প্রিন্স সালমান, প্রিন্স মাশহুর, প্রিন্সেস ফাহদা, প্রিন্সেস নুরা এবং প্রিন্স আব্দুল আজিজ।
সৌদি যুবরাজের বিলাসিতা
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিলাসবহুল জীবনযাপন প্রায়শই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে থাকে। তার বিপুল সম্পদ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
বিলাসবহুল বাসস্থান:
ফ্রান্সে অবস্থিত শ্যাঁতু লুই ফোরটিন নামক একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ তিনি কিনেছেন, যা বিশ্বের অন্যতম দামি বাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিলাসবহুল প্রমোদতরী:
তার সেরিন নামক একটি বিশাল প্রমোদতরী রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং বিলাসবহুল ইয়ট হিসেবে পরিচিত।
শিল্পকর্ম সংগ্রহ:
তিনি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সালভাতোর মুন্ডি নামক একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম কিনেছেন, যা নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে একটি।
বিলাসবহুল পার্টি:
বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তিনি মালদ্বীপে ব্যক্তিগত দ্বীপে বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে বিলাসবহুল পার্টির আয়োজন করেছিলেন।
অন্যান্য বিলাসবহুল ব্যয়:
এছাড়াও, তার ব্যক্তিগত বিমান, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর সংগ্রহ রয়েছে।
যুবরাজের এই বিলাসবহুল জীবনযাপন প্রায়শই সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে যখন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। তবে, তার সমর্থকরা যুক্তি দেন যে, তার এই জীবনযাপন সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির একটি প্রতিফলন।
সৌদি আরবের যুবরাজের ভিশন ২০৩০
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের অর্থনীতি ও সমাজকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তেল নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা, পর্যটন শিল্পকে উন্নত করা এবং সৌদি সমাজকে আরও উদার ও আধুনিক করা।
সৌদি আরবের যুবরাজের সংস্কার ও বিতর্ক:
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, সিনেমা হল চালু করা এবং বিনোদন খাতকে প্রসারিত করা। তবে, তার কিছু নীতি ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।
শেষ কথা:
সৌদি আরবের যুবরাজ হলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আর সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ হলেন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। মোহাম্মদ এর পিতা হলো সালমান, আর সালমানের পিতা আবদুল আজিজ।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
