ট্যুরিজম

কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়? জেনে নিন

কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়
Written by eProbash

ইউরোপ মহাদেশ, তার উন্নত অর্থনীতি, ঐতিহাসিক নিদর্শন, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এক স্বপ্নীল গন্তব্য। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়? সেই দেশগুলোতে পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা প্রবাসী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য খরচ কেমন হবে।

এই ব্লগে আজ আমরা আলোচনা করবো কম খরচে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এবং কিভাবে গেলে তুলনামূলক ভাবে আপনার জন্য সহজ হবে। আপনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে, ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বা প্রবাসী হিসেবে চাকরির উদ্দেশ্যে ইউরোপ যেতে চান না কেন, এই ব্লগে আপনার জন্য বিশেষ গাইড প্রদান করা হয়েছে।

কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়?

বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম খরচে ইউরোপের কিছু দেশে যাওয়া সম্ভব। এর মূল কারণ হলো ঐ দেশগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যান্য পশ্চিমা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় কম এবং ভিসার নিয়মকানুন কিছুটা সহজ। এছাড়াও, আগে থেকে টিকিট বুকিং এবং অফ-সিজনে ভ্রমণ করলে খরচ আরও কমানো যায়।

এখানে কিছু ইউরোপীয় দেশের নাম উল্লেখ করা হলো যেখানে বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম খরচে যাওয়া এবং থাকা সম্ভব:

১. পোল্যান্ড (Poland)

২. হাঙ্গেরি (Hungary)

৩. চেক প্রজাতন্ত্র (Czech Republic)

৪. স্লোভাকিয়া (Slovakia)

৫. রোমানিয়া (Romania)

৬. বুলগেরিয়া (Bulgaria)

৭. পর্তুগাল (Portugal)

৮. লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া (বাল্টিক দেশসমূহ)

উপরোক্ত দেশ গুলোতে যেতে তুলনামূলক ভাবে খরচ কম হয় এবং ভিসা প্রসেসিং এর ক্ষেত্রের কিছুটা সহজ। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যান বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে, অথবা প্রবাস জীবনযাপনের জন্য, আপনার জন্য ইউরোপের এই দেশগুলো কম খরচেই যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

ইউরোপে যাওয়ার খরচ

ইউরোপে মোট ৫০ টির মতো স্বাধীন দেশ আছে। সব দেশে যাওয়ার খরচ এক নয়। আপনি হয়ত জানেন, ইউরোপকে সেনজেন এবং নন সেনজেনে দুটি ভাবে ভাগ করা হয়েছে। ইউরোপের সেনজেন ভুক্ত দেশ গুলোতে যদি যেতে চান, তবে তুলনামূলক খরচ বেশি হবে। আবার নন সেনজেন ভুক্ত দেশ গুলোতে গেলে খরচ তুলনামূলক কম হবে।

শিক্ষার্থী, ভ্রমণকারী এবং প্রবাসী হিসেবে এই দেশগুলোতে যাওয়ার আনুমানিক খরচ সম্পর্কে আপনাকে বলবো। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি, দেশের নিজস্ব আইন ও বিভিন্ন কারণে কখনো কখনো ভিসার খরচ, বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ কম-বেশি হতে দেখা যায়।

১. শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার জন্য:

ভিসা খরচ: ইউরোপের দেশগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

বিমান টিকিট: বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের এই দেশগুলোতে একমুখী বিমান টিকিটের খরচ সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে আগে থেকে বুকিং করলে বা অফ-সিজনে গেলে এর চেয়ে কম দামে পাওয়া সম্ভব।

টিউশন ফি: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে কম, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে। কিছু দেশে বিনামূল্যেও পড়াশোনার সুযোগ আছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি বেশি হতে পারে (বার্ষিক ২০০০ ইউরো থেকে শুরু)। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে ইংরেজি অনেক কোর্সে কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

থাকার খরচ: ছাত্রাবাসগুলোতে থাকার খরচ সাধারণত প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করলে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে (২৫০ ইউরো থেকে শুরু)।

জীবনযাত্রার খরচ: খাবার, পরিবহন, পোশাক এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরো লাগতে পারে।

মোটামুটি খরচ (বার্ষিক): টিউশন ফি (যদি লাগে) + বিমান টিকিট + (থাকার খরচ + জীবনযাত্রার খরচ) x ১২ মাস। দেশ এবং জীবনযাত্রার মানের ওপর নির্ভর করে বাৎসরিক খরচ ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউরোর মধ্যে হতে পারে।

২. ভ্রমণকারী হিসেবে ট্রাভেল করার জন্য:

ভিসা খরচ: স্বল্পমেয়াদী শেনজেন ভিসার জন্য সাধারণত ৮০ ইউরো খরচ হয়।

বিমান টিকিট: রিটার্ন বিমান টিকিটের খরচ সাধারণত ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। সময় এবং রুটের ওপর নির্ভর করে দাম কমবেশি হয়।

থাকার খরচ: হোস্টেলগুলোতে থাকার খরচ প্রতি রাতে ১৫ থেকে ৩০ ইউরো এর আশে পাশে। গেস্ট হাউস বা বাজেট হোটেলে থাকার খরচ ৩০ থেকে ৫০ ইউরো পর্যন্ত।

খাবার খরচ: বাজেট রেস্তোরাঁগুলোতে এক বেলার খাবারের খরচ ১০ থেকে ২০ ইউরো। নিজেরা রান্না করলে খরচ আরও কমানো সম্ভব।

পরিবহন খরচ: শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা সাশ্রয়ী। আন্তঃদেশীয় ভ্রমণের জন্য বাস বা ট্রেনের টিকিট আগে থেকে বুক করলে কম দামে পাওয়া যায়।

দর্শনীয় স্থান: বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান পরিদর্শনের জন্য টিকিটের খরচও ধরে রাখতে হবে।

মোটামুটি খরচ (১ সপ্তাহের জন্য): বিমান টিকিট + ভিসা খরচ + (থাকার খরচ + খাবার খরচ + পরিবহন খরচ + দর্শনীয় স্থানের টিকিট) ≈ ৭০০ থেকে ১৫০০ ইউরো (কমফোর্ট এবং পছন্দের ওপর নির্ভরশীল)।

৩. প্রবাসী হিসেবে যাওয়ার জন্য:

ভিসা খরচ: ওয়ার্ক পারমিট বা দীর্ঘমেয়াদী ভিসার খরচ দেশ ভেদে ভিন্ন হতে পারে (৫০ থেকে ৩০০ ইউরো বা তার বেশি)।

বিমান টিকিট: একমুখী বিমান টিকিটের খরচ ৪০০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত।

থাকার খরচ: বসবাসের খরচ শহরের কেন্দ্র এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। ছোট শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৬০০ ইউরো হতে পারে। বড় শহরগুলোতে খরচ আরও বেশি হতে পারে।

জীবনযাত্রার খরচ: খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরো বা তার বেশি লাগতে পারে।

কাজের সুযোগ: ইউরোপের কিছু দেশে বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। ভাষা এবং দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ভালো বেতনের চাকরি পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা:

বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায় আশাকরি তা বুঝতে পেরেছেন। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র, পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে যাওয়া তুলনামূলক সহজ, আবার খরচও কিছুটা কম। তবে যাওয়ার আগে ঐ দেশের ভিসা নিয়মকানুন, জীবনযাত্রার খরচ এবং আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিলে ইউরোপের সৌন্দর্য উপভোগ করা আপনার জন্য আরও সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে। আশা করি এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য চমৎকার একটি পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। আপনার ইউরোপ যাত্রা শুভ হোক!

About the author

eProbash

প্রবাসীদের প্রতি অকৃত্রিম হৃদয়ের টান, তাদের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরে গর্ববোধ করি।

Leave a Comment