eProbash

আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: আবেদন প্রক্রিয়া ও ২০২৬-এর নতুন নিয়ম

4 min read

In this guide
  1. আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট আসলে কী
  2. আবেদনের ধাপগুলো
  3. কখন আবেদন নাকচ হতে পারে
  4. ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যা বদলাচ্ছে
  5. বাংলাদেশি কর্মীর জন্য কী মনে রাখবেন
  6. প্রতারণা এড়াতে
  7. সাধারণ ভুলগুলো
  8. প্রশ্নোত্তর
    1. আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
    2. কর্মী কি নিজে আবেদন করতে পারেন?
    3. নতুন আইন কবে থেকে?
    4. চাকরি হারালে কী হবে?
  9. মূল কথাগুলো
  10. আরও পড়ুন
  11. তথ্যসূত্র

সংক্ষিপ্ত উত্তর: আর্মেনিয়ায় কাজের অনুমতির আবেদন করেন নিয়োগকর্তা, কর্মী নিজে নন। আবেদন হয় অভিবাসন সেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে, আর কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাকে শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য পদের কথা জানাতে হয়। ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন বিদেশি আইন কার্যকর হওয়ার কথা, যেখানে শ্রমবাজার যাচাইয়ের নিয়ম তুলে দিয়ে বার্ষিক কোটা আনা হচ্ছে। তাই এখন যে কেউ “আর্মেনিয়ার ভিসা নিশ্চিত” বলে টাকা চাইলে সতর্ক হোন।

দ্রুত দেখে নিন

  • আবেদনকারী: নিয়োগকর্তা, অভিবাসন সেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
  • আগে ধাপ: শূন্য পদের তথ্য শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো।
  • নতুন আইন: ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
  • নতুন ওয়ার্ক এন্ট্রি ভিসা: ফি ১৫,০০০ আর্মেনিয়ান ড্রাম, সর্বোচ্চ ১২০ দিন, বছরে একবার। তবে অনলাইন ই-ভিসা সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না।
  • এই লেখায় বাংলাদেশি কর্মীর জন্য আলাদা কোটা বা সরকারি রিক্রুটমেন্ট চুক্তির কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

আর্মেনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট আসলে কী

ওয়ার্ক পারমিট হলো একজন বিদেশির নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে আর্মেনিয়ায় কাজ করার সরকারি অনুমতি। ভিসা আর ওয়ার্ক পারমিট এক জিনিস নয়। ভিসা আপনাকে দেশে ঢুকতে দেয়, আর পারমিট আপনাকে কাজ করতে দেয়। সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটের ধারণা বুঝতে চাইলে পড়ুন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি।

আর্মেনিয়ার বর্তমান নিয়ম ২০১৬ সালের ১২ মের সরকারি সিদ্ধান্ত নং ৪৯৩ অনুযায়ী চলছে, যেখানে পারমিট দেওয়া ও প্রত্যাখ্যানের পদ্ধতি বলা আছে। আইনি প্রতিষ্ঠান এমবি লিগ্যালের ২০২৬ সালের জুনের হালনাগাদ গাইড অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াই অভিবাসন সেবার একীভূত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে চলে।

আবেদনের ধাপগুলো

  1. নিয়োগকর্তা প্রথমে শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্য পদের কথা জানান।
  2. এরপর নিয়োগকর্তা ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন পূরণ ও জমা দেন।
  3. অনুমোদনের সব ধাপ শেষ হলে নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মীর মধ্যে চুক্তি সই হয়।
  4. পারমিট থাকলে তা অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদনেও কাজে লাগে।

এই গাইডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা, ফি, পারমিটের মেয়াদ ও প্রক্রিয়াকরণের সময় দেওয়া নেই। আমি তাই এগুলোর কোনো আনুমানিক সংখ্যা বলছি না। সরকারি অভিবাসন সেবার পোর্টালে বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা জেনে নিন।

কখন আবেদন নাকচ হতে পারে

  • শ্রমবাজারের অবস্থা অনুকূল না হলে।
  • কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হলে।
  • নিয়োগকর্তার আগে আইন লঙ্ঘনের ইতিহাস থাকলে।
  • রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ থাকলে।

১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যা বদলাচ্ছে

আর্মেনিয়ান আইনি প্রতিষ্ঠান আর্মেনিয়ান-ল’ইয়ারের ১০ নভেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত এবং ২৭ আগস্ট ২০২৬ হালনাগাদ করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী নতুন বিদেশি আইনে মূল পরিবর্তনগুলো এই:

বিষয় কী বদলাচ্ছে
শ্রমবাজার যাচাই বাতিল হচ্ছে। এর জায়গায় বসবাসের মর্যাদার ওপর বার্ষিক সরকারি কোটা আসছে। কোটা ফুরিয়ে গেলে আবেদন নাকচের কারণ হবে। কোটার সংখ্যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ওয়ার্ক এন্ট্রি ভিসা ফি ১৫,০০০ ড্রাম, সর্বোচ্চ ১২০ দিন, বছরে একবার। এটি প্রবেশের কাগজ, বসবাসের অনুমতি নয়।
ভিজিটর হয়ে ঢুকে আবেদন ভিসা লাগে এমন দেশের নাগরিক ভিজিটর হিসেবে ঢুকে দেশের ভেতর থেকে ওয়ার্ক-ভিত্তিক বসবাসের আবেদন করলে নাকচ হবে।
চুক্তি শেষ হলে চুক্তি আগেই শেষ হলে নতুন যোগ্য চুক্তি সই করতে ১৫ কর্মদিবস সময় পাওয়া যাবে। না পারলে বাতিল বা মেয়াদ বাড়ানো প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
আবেদন পোর্টাল permit.am-এ সরে যাওয়ার কথা। লেখার সময় প্ল্যাটফর্ম চালু নিশ্চিত ছিল না, workpermit.am তখনো চলছিল।
অস্থায়ী বসবাসের ফি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর সময় ১,৫৫,৯৫০ ড্রামে উঠবে, ১ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে।

একটা জরুরি সতর্কতা: ওয়ার্ক ভিসা ও কাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশের বিধান কার্যকর হবে শুধু নতুন ইলেকট্রনিক এন্ট্রি ভিসা সিস্টেম চালু হলে। সেটির চালুর তারিখ ঘোষণা হয়নি, তাই আপাতত বর্তমান প্রবেশের নিয়মই চলছে।

বাংলাদেশি কর্মীর জন্য কী মনে রাখবেন

  • আর্মেনিয়ায় কাজের চাকরির প্রস্তাব সবসময় নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আসতে হবে। নিয়োগকর্তা পারমিটের আবেদন না করলে আপনি নিজে করতে পারবেন না।
  • বাংলাদেশ থেকে আর্মেনিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারি কোনো নিয়োগ চুক্তি বা বিএমইটির অনুমোদিত প্রক্রিয়া আমি এখনো যাচাই করতে পারিনি। বিদেশে চাকরির আগে বিএমইটির লাইসেন্সধারী এজেন্সির তালিকা দেখে নিন।
  • পাসপোর্টের ভেতর স্টিকার বা কাগজ হাতে পেলে আর্মেনিয়ার দূতাবাস বা অভিবাসন সেবা থেকে যাচাই করে নিন।

প্রতারণা এড়াতে

  • “কোটা ফুরিয়ে যাচ্ছে, আজই টাকা দিন” ধরনের কথা শুনলে সরে আসুন। কোটা এখনো প্রকাশিতই হয়নি।
  • পারমিট বা ভিসার খরচ হিসেবে কেউ নির্দিষ্ট অঙ্ক বললে সরকারি ফি আলাদা করে জানতে চান। রশিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না।
  • ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজের পারমিট জোগাড়ের প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন, নতুন আইনে সেটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

সাধারণ ভুলগুলো

  • ভিসা আর ওয়ার্ক পারমিটকে এক ভাবা।
  • পুরোনো ব্লগ পড়ে শ্রমবাজার যাচাইয়ের নিয়ম এখনো থাকবে ধরে নেওয়া।
  • নিয়োগকর্তার সঙ্গে লিখিত চুক্তি ছাড়াই যাত্রা শুরু করা।

প্রশ্নোত্তর

আর্মেনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?

আমি যেসব সূত্র যাচাই করেছি, সেখানে সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটের সরকারি ফি স্পষ্ট দেওয়া নেই। নতুন আইনে ওয়ার্ক এন্ট্রি ভিসার ফি ১৫,০০০ ড্রাম এবং অস্থায়ী বসবাসের ফি ১,৫৫,৯৫০ ড্রাম বলা হয়েছে। সরকারি অঙ্ক ছাড়া কেউ “প্যাকেজ খরচ” বললে সেটা যাচাই না করে দেবেন না।

কর্মী কি নিজে আবেদন করতে পারেন?

না। এমবি লিগ্যালের গাইড অনুযায়ী নিয়োগকর্তা আবেদন করেন।

নতুন আইন কবে থেকে?

১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ওয়ার্ক ভিসার অংশ চালু হবে ই-ভিসা সিস্টেম চালুর পর।

চাকরি হারালে কী হবে?

নতুন আইনে চুক্তি আগে শেষ হলে নতুন যোগ্য চুক্তি করতে ১৫ কর্মদিবস পাওয়া যাবে।

মূল কথাগুলো

  • আবেদন করেন নিয়োগকর্তা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
  • ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শ্রমবাজার যাচাইয়ের বদলে কোটা আসছে।
  • বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট সরকারি চুক্তির তথ্য নিশ্চিত নয়।
  • টাকা দেওয়ার আগে রশিদ ও সরকারি তথ্য মিলিয়ে নিন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। নিয়ম বদলালে লেখাটি হালনাগাদ করা হবে।

তথ্যসূত্র

  • এমবি লিগ্যাল: আর্মেনিয়ায় বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট গাইড (হালনাগাদ ১৯ জুন ২০২৬)
  • আর্মেনিয়ান-ল’ইয়ার: আর্মেনিয়ার অভিবাসন আইন সংস্কার, নভেম্বর ২০২৬ (প্রকাশ ১০ নভেম্বর ২০২৫, হালনাগাদ ২৭ আগস্ট ২০২৬)