রেমিট্যান্স

প্রবাসী-প্রেরিত অর্থ বা রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান ২০১২ – ২০২৬

হালনাগাদ 3 min read

এই গাইডে
  1. বিশ্বে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকা দেশ (২০১২-২০১৭)
  2. বাংলাদেশের বছরভিত্তিক রেমিট্যান্স
    1. পঞ্জিকা বছর ২০১৮-২০২৩
    2. সাম্প্রতিক অর্থবছর (জুলাই-জুন)
  3. প্রবাসী-প্রেরিত অর্থের প্রভাব
    1. পরিবারের জন্য
    2. দেশের অর্থনীতির জন্য
  4. প্রতারণা এড়াতে ও সঠিক পথে পাঠাতে
  5. সাধারণ ভুলগুলো
  6. প্রশ্নোত্তর
    1. প্রবাসী-প্রেরিত অর্থ কাকে বলে?
    2. বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে কোন বছর?
    3. এই সংখ্যায় হুন্ডি ধরা হয়?
  7. মূল কথাগুলো
  8. আরও পড়ুন
  9. তথ্যসূত্র

সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রবাসী-প্রেরিত অর্থ মানে বিদেশে কর্মরতদের দেশে পাঠানো টাকা, যাকে রেমিট্যান্সও বলা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেয়েছে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশ ব্যাংক), আগের বছরের প্রায় ৩০.৩ বিলিয়নের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।

কোন দেশ কত পাঠায়, তার জন্য নিচে ২০১২-২০১৭ সালের বিশ্বব্যাপী তুলনা আছে। বাংলাদেশের বছরভিত্তিক হিসাব পাবেন তার পরের দুটি টেবিলে।

বিশ্বে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকা দেশ (২০১২-২০১৭)

প্রতিটি সংখ্যা হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। যেমন ভারতের ২০১২ সালের ৬.৮৮২ মানে প্রায় ৬৮.৮ বিলিয়ন ডলার।

দেশ ২০১২ ২০১৩ ২০১৪ ২০১৫ ২০১৬ ২০১৭
ভারত ৬.৮৮২ ৬.৯৯৭ ৭.০৯৭ ৭.২২০ ৬.২৭ ৬.৯
চীন ৫.৭৯৯ ৫.৯৪৯ ৬.১৪৯ ৬.৩৯ ৬.১ ৬.৪
ফিলিপাইন ২.৪৬১ ২.৬৭ ২.৭৯ ২.৯৮ ২.৯৯ ৩.৩
মেক্সিকো ২.৩৩৭ ২.৩০২ ২.৪৫ ২.৫৭ ২.৮৫ ৩.১
নাইজেরিয়া ২.০৬৩ ২.০৮৯ ২.০৪৪ ২.০৮৯ ১.৯ ২.২
মিশর ১.৯২৪ ১.৭৮৩ ১.৯৮৩ ২.০৪ ১.৬৬ ২.০০
পাকিস্তান ১.৪০১ ১.৪৬৩ ১.৭৮ ২.০১ ১.৯৮ ২.০
বাংলাদেশ ১.৪২৪ ১.৩৮৬ ১.৫১০ ১.৫৮০ ১.৩৭ ১.৩
ভিয়েতনাম ১.০০ ১.১০ ১.১৮ ১.২৩ ১.৩৪ ১.৪

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়ায় সংকলিত বিশ্বব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যান। সংখ্যাগুলো পুরোনো, তুলনার জন্য রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের বছরভিত্তিক রেমিট্যান্স

পঞ্জিকা বছর ২০১৮-২০২৩

সাল মোট প্রবাসী-প্রেরিত অর্থ
২০১৮ ১ হাজার ৫৫৫ কোটি মার্কিন ডলার
২০১৯ ১ হাজার ৮৩৩ কোটি মার্কিন ডলার
২০২০ ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার
২০২১ ২ হাজার ২০৭ কোটি মার্কিন ডলার
২০২২ ২ হাজার ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার
২০২৩ ২ হাজার ১৯২ কোটি মার্কিন ডলার

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট

সাম্প্রতিক অর্থবছর (জুলাই-জুন)

অর্থবছর রেমিট্যান্স
২০২৪-২৫ প্রায় ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার
২০২৫-২৬ ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার (রেকর্ড)

পঞ্জিকা বছর আর অর্থবছরের হিসাব এক নয়, তাই ওপরের দুটি টেবিলের সংখ্যা সরাসরি যোগ বা তুলনা করবেন না। ২০২৫-২৬-এর তথ্য এসেছে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন থেকে, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত উদ্ধৃত হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংখ্যাটি আমি এখানে যাচাই করে দিইনি, তাই সেটি বাদ রাখা হলো।

এই সংখ্যাগুলো কেবল বৈধ পথে আসা অর্থ। হুন্ডির মাধ্যমে আসা অর্থ এই হিসাবে ধরা হয় না। হুন্ডি কেন ক্ষতিকর, তা পড়ুন হুন্ডি কী লেখায়।

প্রবাসী-প্রেরিত অর্থের প্রভাব

পরিবারের জন্য

  • আয় বাড়ে, দারিদ্র্য কমতে সাহায্য করে।
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিতে খরচের সামর্থ্য বাড়ে।
  • ছোট ব্যবসা বা জমি কেনার মতো বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

দেশের অর্থনীতির জন্য

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত হয়।
  • আমদানি ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য বাড়ে।
  • গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হয়।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন রেমিট্যান্স অর্থনীতি বলতে কী বোঝায় লেখায়।

প্রতারণা এড়াতে ও সঠিক পথে পাঠাতে

  • হুন্ডিতে বেশি রেট পেলেও টাকা আটকে যাওয়া বা প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • বৈধ চ্যানেলে পাঠালে সরকারি প্রণোদনার সুযোগ থাকতে পারে। হার বদলায়, তাই পাঠানোর আগে সেবাদাতার কাছে জেনে নিন। বিকাশের ধাপগুলো আছে বিকাশে রেমিট্যান্স পাঠানো ও নেওয়ার নিয়ম লেখায়।

সাধারণ ভুলগুলো

  • পঞ্জিকা বছর ও অর্থবছরের সংখ্যা মিলিয়ে ফেলা।
  • ২০১২-২০১৭-এর পুরোনো র‍্যাঙ্কিংকে আজকের তালিকা ভাবা।
  • শুধু রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেখে দেশের অর্থনীতিকে মূল্যায়ন করা।

প্রশ্নোত্তর

প্রবাসী-প্রেরিত অর্থ কাকে বলে?

বিদেশে কাজ করা ব্যক্তিরা দেশে পরিবার বা আত্মীয়ের কাছে যে অর্থ পাঠান। সংজ্ঞা ও প্রকার নিয়ে লেখা আছে রেমিট্যান্স কাকে বলে পোস্টে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে কোন বছর?

অর্থবছরের হিসাবে ২০২৫-২৬ সালে, ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

এই সংখ্যায় হুন্ডি ধরা হয়?

না। শুধু ব্যাংকিং ও অনুমোদিত চ্যানেলে আসা অর্থ গণনা হয়।

মূল কথাগুলো

  • ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার।
  • অর্থবছর ও পঞ্জিকা বছরের তুলনা আলাদা রাখুন।
  • হুন্ডির বদলে বৈধ পথ নিরাপদ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬।

তথ্যসূত্র

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত, The Financial Express (১ জুলাই ২০২৬) ও প্রথম আলো ইংরেজি (১ জুলাই ২০২৬)
  • ঢাকা পোস্ট (২০১৮-২০২৩ পঞ্জিকা বছরের হিসাব)
  • উইকিপিডিয়া (২০১২-২০১৭ বৈশ্বিক পরিসংখ্যান)