eProbash

রাশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: কীভাবে হয়, কী ঝুঁকি আছে ও বাংলাদেশিদের কী জানা জরুরি

5 min read

এই গাইডে
  1. রাশিয়ায় কাজের অনুমতি কত ধরনের
  2. ২০২৬ সালে কী ঘটছে
    1. এক লাখ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব
    2. যুদ্ধক্ষেত্রে পড়া ৩০ জনের ঘটনা
  3. রাশিয়ার চাকরির প্রস্তাব পেলে যা যাচাই করবেন
  4. প্রতারণা এড়াতে
  5. সাধারণ ভুলগুলো
  6. প্রশ্নোত্তর
    1. রাশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
    2. রাশিয়ায় কি বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো এখন চালু?
    3. রাশিয়ায় ভিজিট ভিসা নিয়ে কি কাজ করা যায়?
    4. HQS কী?
  7. মূল কথাগুলো
  8. আরও পড়ুন
  9. তথ্যসূত্র

সংক্ষিপ্ত উত্তর: রাশিয়ায় ভিসা লাগে এমন দেশের নাগরিকদের জন্য কাজের অনুমতি সাধারণত কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়, যেখানে নিয়োগকর্তা আগে পদের জন্য কোটা এবং বিদেশি কর্মী নেওয়ার অনুমতি জোগাড় করেন। উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য আলাদা পথ আছে। ২০২৬ সালে রাশিয়ায় কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি যুদ্ধের মাঠে পড়েছেন, এমন প্রতিবেদনও এসেছে। তাই রাশিয়ার চাকরির প্রস্তাব পেলে সবচেয়ে আগে জানুন, আপনি ঠিক কোন কাজে, কোন কোম্পানিতে, কোন শহরে যাচ্ছেন।

দ্রুত দেখে নিন

  • ৮ জুন ২০২৬: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মস্কোয় এক বছরে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেন। রাশিয়া প্রস্তাবে কাজ করতে সম্মত হয়, চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ৯ জুন ২০২৬)।
  • ১২ জুলাই ২০২৬ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল কাজের ভিসায় যাওয়া ৩০ জন বাংলাদেশির অন্তত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন।
  • বিএমইটির ছাড়পত্র থাকলেও ঝুঁকি থাকতে পারে, ঘটনাটাই তার উদাহরণ।
  • ২০১৭ সালের একটি আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী কোটা ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়ায় চার থেকে ছয় মাস লাগে। পুরোনো তথ্য, নিয়ম বদলে থাকতে পারে।

রাশিয়ায় কাজের অনুমতি কত ধরনের

জুস প্রাইভাটাম আইন প্রতিষ্ঠানের ২০১৭ সালের বিশ্লেষণ (মন্ডাক) অনুযায়ী রাশিয়ার ফেডারেল আইন ১১৫-এফজেড বিদেশি কর্মীদের কয়েকটি ভাগে ফেলে। এটি আট বছরের পুরোনো সূত্র, তাই নিচের কাঠামোটা বোঝার জন্য নিন, ফি বা সময়সীমার জন্য নয়।

ধরন কার জন্য কীভাবে হয়
কোটা ব্যবস্থা (ভিসা লাগে এমন দেশ) বাংলাদেশসহ ভিসাভুক্ত দেশের সাধারণ কর্মী নিয়োগকর্তা পদ ও দেশের জন্য কোটা নেন, তারপর কোম্পানির জন্য বিদেশি নিয়োগের অনুমতি, তারপর কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট। এরপর কর্মী ওয়ার্ক ভিসা নেন।
উচ্চ দক্ষ বিশেষজ্ঞ (HQS) নির্দিষ্ট বেতনের সীমার ওপরে বেতন পাওয়া পেশাজীবী কোটা লাগে না, মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর, প্রক্রিয়া সাধারণত ১৪ কর্মদিবস থেকে দেড় মাস
পেটেন্ট (ভিসা ছাড়া আসা কিছু দেশের নাগরিক) আজারবাইজান, মলদোভা, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইউক্রেন কর্মী নিজে আবেদন করেন। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

HQS হতে ২০১৭ সালে বছরে ১,৬৭,০০০ রুবলের সীমা ছিল (কিছু ক্ষেত্রে মাসে ৮৩,৫০০ রুবল), তবে এই অঙ্ক পরে বদলে থাকতে পারে। মনে রাখবেন, এই ধরনের পেশাজীবী পথ সাধারণ শ্রমিক পাঠানোর জন্য নয়।

২০২৬ সালে কী ঘটছে

এক লাখ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ৯ জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ জুন মস্কোয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশ আগামী এক বছরে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। তখন রাশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছিলেন বলে জানানো হয়। রাশিয়া প্রস্তাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, কোন খাতে কর্মী যাবেন বা কী শর্তে, প্রতিবেদনে তা বলা নেই। অর্থাৎ এটি এখনো আলোচনার স্তরে।

যুদ্ধক্ষেত্রে পড়া ৩০ জনের ঘটনা

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ১২ জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩০ জন তরুণ ২৪ এপ্রিল কাজের ভিসায় রাশিয়া যান। তাঁদের বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল এবং একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ আছে, পৌঁছানোর পর তাঁদের ক্যাম্পে নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের মাঠে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর আছে। সরকার বাকিদের ফেরত আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও আছে: মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস মে মাসের ৫ তারিখে ঢাকাকে সতর্ক করেছিল। ২৫ মে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক নোট পাঠায় এবং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার সুপারিশ করে। দূতাবাসের শ্রম উইং ওই এজেন্সির কাগজ সত্যায়িত করেনি। কর্মীদের “ড্রোন কারখানায়” কাজের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু কারখানা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হওয়ায় দূতাবাস পরিদর্শনের অনুমতি পায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চ বেতন ও নাগরিকত্বের লোভ দেখিয়ে আরও অনেক বাংলাদেশিকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্তাধীন। আমি এখানে কোনো এজেন্সির নাম লিখছি না, কারণ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

রাশিয়ার চাকরির প্রস্তাব পেলে যা যাচাই করবেন

  • কাজের ধরন লিখিত চুক্তিতে আছে কি না। “নিরাপত্তা”, “সহায়তা”, “কারখানা” মতো অস্পষ্ট শব্দ থাকলে আরও খুঁটিয়ে জানতে চান।
  • নিয়োগকর্তার সম্পূর্ণ নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন। মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং সেই কাগজ সত্যায়ন করেছে কি না, জিজ্ঞেস করুন।
  • কাজের জায়গা কোথায়। সংঘাতপ্রবণ বা সীমান্তবর্তী এলাকা হলে যাবেন না।
  • বেতন ও থাকার ব্যবস্থা। লিখিত চুক্তি ছাড়া মুখের কথায় রাজি হবেন না।
  • এজেন্সির লাইসেন্স। বিএমইটির তালিকায় মিলিয়ে নিন, তবে মনে রাখুন লাইসেন্স থাকলেই নিরাপদ নয়।
  • পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখা। পাসপোর্ট ও ফোন কেউ নিয়ে গেলে সেটা বিপদের লক্ষণ।

প্রতারণা এড়াতে

  • “রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাবেন” ধরনের প্রতিশ্রুতি সন্দেহজনক। কাজের পারমিট আর নাগরিকত্ব এক জিনিস নয়।
  • অতিরিক্ত উচ্চ বেতনের কথা শুনলে কারণ জানতে চান। স্বাভাবিক কারখানার কাজে এমন প্রস্তাব বিরল।
  • কোনো আত্মীয় বা পরিচিত জানালে যে তাঁকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে, তখনই মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জানান।

সাধারণ ভুলগুলো

  • বিএমইটির স্মার্ট কার্ড বা ছাড়পত্র পেয়েছি বলে ধরে নেওয়া যে কাজ নিরাপদ।
  • ভিসা ও কাজের অনুমতিকে এক ভাবা।
  • পুরোনো ব্লগ পড়ে বর্তমান নিয়মের ধারণা তৈরি করা। এই লেখার আইনি কাঠামোর সূত্র ২০১৭ সালের, তাই বর্তমান নিয়ম রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের পাতায় যাচাই করুন।

প্রশ্নোত্তর

রাশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?

আমি কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট খরচ পাইনি। কেউ নির্দিষ্ট অঙ্ক বললে রশিদ ও সরকারি ফির বিভাজন চান।

রাশিয়ায় কি বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো এখন চালু?

জুন ২০২৬ পর্যন্ত এক লাখ কর্মীর প্রস্তাব আলোচনার স্তরে ছিল, চূড়ান্ত চুক্তির তথ্য নেই। জুলাইয়ের প্রতিবেদনের পর পরিস্থিতি বদলে থাকতে পারে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির নোটিশ দেখুন।

রাশিয়ায় ভিজিট ভিসা নিয়ে কি কাজ করা যায়?

না। কাজের জন্য আলাদা অনুমতি লাগে। ভিজিট ভিসায় কাজ করলে অবৈধ হওয়ার ঝুঁকি আছে।

HQS কী?

Highly Qualified Specialist, অর্থাৎ নির্দিষ্ট বেতনের ওপরে বেতন পাওয়া উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী, যাঁদের কোটা লাগে না।

মূল কথাগুলো

  • সাধারণ কর্মীদের জন্য রাশিয়ার পথ কোটা-নির্ভর এবং নিয়োগকর্তা-চালিত।
  • এক লাখ কর্মীর প্রস্তাব এখনো চুক্তি নয়।
  • ২০২৬ সালের ঘটনা দেখায়, ছাড়পত্র থাকলেও চাকরির ধরন ও নিয়োগকর্তা যাচাই করা জরুরি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। নতুন তথ্য এলে হালনাগাদ করা হবে।

তথ্যসূত্র

  • দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ৯ জুন ২০২৬ (১ লাখ কর্মী নিয়োগ প্রস্তাব)
  • দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১২ জুলাই ২০২৬ (রাশিয়ায় কাজের ভিসা নিয়ে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশি)
  • জুস প্রাইভাটাম, মন্ডাক: বিদেশি কর্মীর শ্রেণিবিভাগ, ১৮ অক্টোবর ২০১৭