eProbash

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: সিঙ্গেল পারমিট, নিয়োগকর্তার ভূমিকা ও বাংলাদেশিদের জন্য করণীয়

4 min read

এই গাইডে
  1. সার্বিয়ায় কাজ করতে কী কী লাগে
  2. আবেদনের ধাপ
  3. চাকরি বদল বা চুক্তি শেষ হলে
  4. বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান কী
  5. প্রতারণা এড়াতে
  6. সাধারণ ভুলগুলো
  7. প্রশ্নোত্তর
    1. সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
    2. সিঙ্গেল পারমিট কী?
    3. নিজে কি আবেদন করা যায়?
    4. চুক্তি শেষ হলে কী হয়?
  8. মূল কথাগুলো
  9. আরও পড়ুন
  10. তথ্যসূত্র

সংক্ষিপ্ত উত্তর: সার্বিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য লাগে লং-স্টে ওয়ার্ক ভিসা এবং “সিঙ্গেল পারমিট”, যা একই সঙ্গে অস্থায়ী বসবাস ও কাজের অনুমতি। জাতীয় কর্মসংস্থান সংস্থা (NES) আবেদন যাচাই করে, আর পারমিট দেয় সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রক্রিয়া শুরু করেন সার্বিয়ার নিয়োগকর্তা। বাংলাদেশ থেকে কেউ “সার্বিয়ার ভিসা রেডি” বলে টাকা চাইলে আগে নিয়োগকর্তার কাগজ ও বিএমইটি অনুমোদন মিলিয়ে নিন।

দ্রুত দেখে নিন

  • পারমিটের নাম: সিঙ্গেল পারমিট (বসবাস ও কাজ একসঙ্গে)।
  • যাচাই করে: জাতীয় কর্মসংস্থান সংস্থা (NES)। পারমিট দেয়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • নিয়োগকর্তার প্রথম ধাপ: শূন্য পদ নিবন্ধনের ফর্ম (PPZ) জমা দিয়ে শ্রমবাজার যাচাই। এতে একটি আইডি নম্বর তৈরি হয়, যা কর্মীর আবেদনে বসে।
  • নিয়োগ শেষ হলে নতুন চুক্তি করার সময়: ৩০ দিন।
  • নিয়োগকর্তা, ক্ষেত্র বা একাধিক নিয়োগকর্তা বদলের অনুমোদনের ফি: ৪৩০ সার্বিয়ান দিনার, সময় ১০ দিন।

সার্বিয়ায় কাজ করতে কী কী লাগে

NES-এর পাতা অনুযায়ী সার্বিয়ায় কাজ করা বিদেশির জন্য সাধারণভাবে লাগে লং-স্টে ভিসা, বসবাসের অনুমতি এবং সিঙ্গেল পারমিট। অবৈধভাবে থাকা বা কাজের শর্ত পূরণ করেননি এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকর্তার জন্য নিষিদ্ধ। নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ রাখতে হয় যে কর্মী কাজের শর্ত পূরণ করেছেন। এই কাঠামো ২০২৩ সালের সংশোধিত বিদেশি নিয়োগ আইনের (সরকারি গেজেট নং ৬২/২০২৩) ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ওয়ার্ক পারমিটের সাধারণ ধারণা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি।

আবেদনের ধাপ

  1. শ্রমবাজার যাচাই: সার্বিয়ার নিয়োগকর্তা শূন্য পদ নিবন্ধনের ফর্ম (PPZ) জমা দেন। সিস্টেম একটি আইডি নম্বর তৈরি করে। এই যাচাইয়ের আবেদন সিঙ্গেল পারমিটের আবেদনের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত করা যায়।
  2. সিঙ্গেল পারমিটের আবেদন: কর্মী ওই আইডি নম্বর সহ আবেদনে ব্যবহার করেন। একই পদবি, বিবরণ ও পেশার জন্য একটি গ্রুপ আবেদনে শ্রমবাজার যাচাইয়ের আবেদনের চেয়ে বেশি লোক রাখা যায় না।
  3. NES যাচাই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত: NES যোগ্যতা যাচাই করে, পারমিট দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  4. ভিসা ও প্রবেশ: বিদেশ থেকে আসা কর্মীর জন্য লং-স্টে ভিসা লাগে।

NES-এর পাতায় প্রথম সিঙ্গেল পারমিটের প্রক্রিয়াকরণের সময়, মেয়াদ বা কোটার কথা বলা নেই। তাই আমি এগুলোর কোনো সংখ্যা দিচ্ছি না।

এনভয় গ্লোবালের ২৬ এপ্রিল ২০২৩-এর প্রতিবেদনে (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হালনাগাদ) বসবাস ও কাজের অনুমতি একসঙ্গে প্রক্রিয়া করা, অনলাইন পোর্টালে আবেদন এবং বসবাসের কার্ডের মেয়াদ এক বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর করার প্রস্তাবের কথা এসেছে। তখন বিলটি সংসদে অপেক্ষমাণ ছিল এবং ২০২৪ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে কোনটা পুরোপুরি চালু, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাতায় যাচাই করে নিন।

চাকরি বদল বা চুক্তি শেষ হলে

  • সিঙ্গেল পারমিট শেষ হলে চাকরিও শেষ ধরা হয়।
  • চুক্তি শেষ হলে নতুন চুক্তি করার জন্য ৩০ দিন সময় থাকে। না পারলে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান আইন প্রযোজ্য হয়।
  • নিয়োগকর্তা, কাজের ভিত্তি বা একাধিক নিয়োগকর্তা বদলাতে NES-এর অনুমোদন লাগে। আবেদন করতে পারেন কর্মী, নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি। NES ১০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেয়। এর জন্য সরকারি ফি ৪৩০ সার্বিয়ান দিনার।

বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান কী

২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ইউএনবি প্রতিবেদন (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী সার্বিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সার্বিয়ার শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জেনেছিলেন, সার্বিয়ার কোম্পানিগুলো বৈধ পথে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী। তখন বাংলাদেশিদের ৩০টি ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছিল এবং ১৪ জন বাংলাদেশি জ্বালানি কোম্পানি বেডেমে যোগ দিয়েছিলেন। শ্রম বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের কথাও আলোচনায় ছিল।

এটা পাঁচ বছর আগের খবর। আমি এমন কোনো সরকারি সূত্র পাইনি যেটা এখন বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়ায় নিয়মিত কর্মী পাঠানো চালু আছে বা কোনো সরকারি চুক্তি সই হয়েছে বলে নিশ্চিত করে। তাই কেউ “সার্বিয়ার কোটা খোলা” বললে বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখে তবেই এগোন।

প্রতারণা এড়াতে

  • সার্বিয়ার নিয়োগকর্তার নাম, নিবন্ধন ও চাকরির চুক্তি লিখিতভাবে চেয়ে নিন। আইডি নম্বর ছাড়া “পারমিট হয়ে যাবে” কথার ওপর ভরসা করবেন না।
  • ভিজিট ভিসায় ঢুকিয়ে পরে কাজের অনুমতি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে চলুন।
  • রশিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না। বিএমইটির লাইসেন্সধারী এজেন্সির তালিকায় নাম মেলান।
  • ভিসার ধরন নিয়ে ধারণা নিতে পড়ুন ভিসা কত প্রকার ও কি কি।

সাধারণ ভুলগুলো

  • সার্বিয়াকে ইউরোপের সহজ দরজা ভেবে বিনা কাজের চুক্তিতে যাওয়া।
  • লং-স্টে ভিসা আর সিঙ্গেল পারমিটকে একই ভাবা।
  • চুক্তি শেষের ৩০ দিনের সময়সীমা না জানা।

প্রশ্নোত্তর

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?

সিঙ্গেল পারমিটের প্রাথমিক আবেদনের সরকারি ফি NES-এর পাতায় নেই। শুধু নিয়োগকর্তা, ভিত্তি বা একাধিক নিয়োগকর্তা বদলের অনুমোদনের ফি ৪৩০ সার্বিয়ান দিনার উল্লেখ আছে। এজেন্টের “প্যাকেজ খরচ” সরকারি ফি নয়।

সিঙ্গেল পারমিট কী?

এটি অস্থায়ী বসবাস ও কাজের সম্মিলিত অনুমতি, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয় এবং NES যোগ্যতা যাচাই করে।

নিজে কি আবেদন করা যায়?

শুরুটা করেন সার্বিয়ার নিয়োগকর্তা, কারণ শ্রমবাজার যাচাই ও শূন্য পদ নিবন্ধন নিয়োগকর্তার কাজ।

চুক্তি শেষ হলে কী হয়?

নতুন চুক্তি করতে ৩০ দিন সময় পাওয়া যায়।

মূল কথাগুলো

  • সিঙ্গেল পারমিটই সার্বিয়ার প্রধান কাজের অনুমতি।
  • নিয়োগকর্তার শ্রমবাজার যাচাই ছাড়া আবেদন শুরু হয় না।
  • বাংলাদেশ থেকে বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। নিয়ম বদলালে লেখাটি হালনাগাদ করা হবে।

তথ্যসূত্র

  • সার্বিয়ার জাতীয় কর্মসংস্থান সংস্থা (NES): বিদেশিদের নিয়োগ
  • এনভয় গ্লোবাল: সার্বিয়ার ওয়ার্ক ও বসবাস পারমিটের হালনাগাদ প্রক্রিয়া, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইউএনবি), ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১