কম্বোডিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: বিদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট কার্ডের নিয়ম
এই গাইডে
সংক্ষিপ্ত উত্তর: কম্বোডিয়ায় কাজ করা বিদেশির সাধারণত দুটি জিনিস লাগে: ওয়ার্ক পারমিট এবং এমপ্লয়মেন্ট কার্ড। দুটোই দেয় কম্বোডিয়ার শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় (MLVT)। আবেদন হয় মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ জারি করা নোটিফিকেশন নং ১১০/২৩ অনুযায়ী পাসপোর্ট, সর্বশেষ প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেট, শারীরিক পরীক্ষার ফর্ম ও ৪×৬ সেন্টিমিটার ছবি লাগে।
দ্রুত দেখে নিন
- দেয় কে: কম্বোডিয়ার শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় (MLVT)।
- কাগজ: বৈধ পাসপোর্ট, সর্বশেষ প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেট, শারীরিক পরীক্ষার ফর্ম, ৪×৬ সেন্টিমিটার ছবি।
- আবেদন: এমএলভিটির অনলাইন পোর্টালে।
- ছাড়: বিদেশি শেয়ারহোল্ডার ও বোর্ড সদস্য, যাঁদের কম্বোডিয়ার রেসিডেন্ট ভিসা নেই, তাঁদের পারমিট বা কার্ড লাগে না।
- এই সূত্রে ফি, মেয়াদ, কোটা, সময়সীমা ও জরিমানা নেই।
কারা কোন অনুমতি নেবেন
কম্বোডিয়ার আইনি প্রতিষ্ঠান তিলেকে অ্যান্ড গিবিন্সের ১২ জানুয়ারি ২০২৪ প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শ্রম আইন ও ২০১৪ সালের ২০ আগস্টের প্রকাশনা ১৯৫-এর অধীনে এই নিয়ম চলছে:
| কে | কী লাগে |
|---|---|
| প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেটে নাম থাকা বিদেশি নিয়োগকর্তা | বিদেশি ওয়ার্ক পারমিট |
| প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেটে নাম থাকা বিদেশি কর্মচারী | ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট কার্ড |
| স্বনিয়োজিত বিদেশি | ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট কার্ড |
| বিদেশি শেয়ারহোল্ডার ও বোর্ড সদস্য (রেসিডেন্ট ভিসা নেই) | কিছুই লাগে না |
দেখতে পাচ্ছেন, নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেট আবেদনের কেন্দ্রে। অর্থাৎ নিয়োগকর্তা কম্বোডিয়ায় বৈধভাবে নিবন্ধিত না হলে কর্মীর পারমিট পাওয়া কঠিন।
আবেদনে ধাপগুলো
- কম্বোডিয়ায় বৈধ নিবন্ধিত কোম্পানি আপনার কাজের প্রস্তাব দেয়।
- বৈধ পাসপোর্ট, প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেটের সর্বশেষ কপি, শারীরিক পরীক্ষার ফর্ম ও ছবি জোগাড় হয়।
- এমএলভিটির অনলাইন পোর্টালে আবেদন জমা হয়।
- পারমিট ও কার্ড পেলে কাজ শুরু।
এই সূত্রে ফি, মেয়াদ, কোটা, সময়সীমা ও জরিমানা নেই। এগুলোর জন্য আমি কোনো সংখ্যা দিচ্ছি না। কম্বোডিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয় বা আইনি পরামর্শকের কাছ থেকে জেনে নিন।
বাংলাদেশি কর্মীর জন্য কী মনে রাখবেন
- এই লেখার সূত্র একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ, সরকারি পাতা নয়। সব তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের নোটিফিকেশন পর্যন্ত। এরপর নিয়ম বদলেছে কি না, মন্ত্রণালয়ের পাতায় যাচাই করুন।
- বাংলাদেশ থেকে কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর সরকারি কোনো চুক্তি বা বিএমইটির ঘোষিত প্রক্রিয়ার তথ্য আমি পাইনি। তাই “কম্বোডিয়ার ওয়ার্ক পারমিট হয়ে যাবে” ধরনের প্রস্তাবে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
- পর্যটক বা বিজনেস ভিসায় ঢুকে পরে কাজের অনুমতি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঝুঁকিপূর্ণ।
কম্বোডিয়া নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
কম্বোডিয়ায় সুন্দর বেতনের আইটি, কল সেন্টার বা “অনলাইন মার্কেটিং”-এর চাকরির প্রস্তাব দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলার ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আলোচিত। আমি এই লেখায় নির্দিষ্ট সংখ্যা বা ঘটনার দাবি করছি না, তবে নিরাপদ থাকার নিয়মগুলো সহজ: বিএমইটির অনুমোদিত এজেন্সি ছাড়া যাবেন না, ভিজিট ভিসায় চাকরি নয়, নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠান ও ঠিকানা আগে যাচাই করুন, আর কেউ পাসপোর্ট রেখে দিতে চাইলে সরে আসুন।
প্রতারণা এড়াতে
- প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেটসহ নিয়োগকর্তার কাগজ দেখতে চান।
- লিখিত চুক্তি ও রশিদ ছাড়া কোনো লেনদেন নয়।
- অস্বাভাবিক উচ্চ বেতন, বা কাজের ধরন অস্পষ্ট হলে আরও খোঁজ নিন।
সাধারণ ভুলগুলো
- ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটকে এক ভাবা। কম্বোডিয়ায় ঢোকার ভিসা আর কাজের অনুমতি আলাদা।
- পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট কার্ড, দুটোই লাগে কি না, তা না জানা।
প্রশ্নোত্তর
কম্বোডিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
যে সূত্র যাচাই করেছি, সেখানে ফির অঙ্ক নেই। তাই কোনো সংখ্যা দিতে পারছি না।
এমপ্লয়মেন্ট কার্ড কী?
ওয়ার্ক পারমিটের পাশাপাশি যে কার্ড বিদেশি কর্মচারী ও স্বনিয়োজিতদের নিতে হয়।
কারা ছাড় পান?
রেসিডেন্ট ভিসা না থাকা বিদেশি শেয়ারহোল্ডার ও বোর্ড সদস্যরা।
আবেদন কীভাবে হয়?
এমএলভিটির অনলাইন পোর্টালে।
মূল কথাগুলো
- ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট কার্ড, দুটোই এমএলভিটি দেয়।
- প্যাটেন্ট ট্যাক্স সার্টিফিকেট আবেদনের প্রধান কাগজ।
- বাংলাদেশ থেকে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। নতুন নিয়ম এলে হালনাগাদ করা হবে।
তথ্যসূত্র
- তিলেকে অ্যান্ড গিবিন্স: কম্বোডিয়ার বিদেশি কর্মীদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট নিয়ম, ১২ জানুয়ারি ২০২৪ (নোটিফিকেশন নং ১১০/২৩, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩)