মালদ্বীপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: আবেদন প্রক্রিয়া ও খরচ কত টাকা লাগে
এই গাইডে
সংক্ষিপ্ত উত্তর: মালদ্বীপে কাজের জন্য প্রথমে আপনার নিয়োগকর্তা ওয়ার্ক পারমিট করান। সেই পারমিট নিয়ে ঢুকলে আপনি একটি “এন্ট্রি পাস” পান। দেশে পৌঁছনোর ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা আপনার জন্য ই-ভিসা নেন। মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের পেজে খরচের অঙ্ক দেওয়া নেই, তাই “কত টাকা লাগে” প্রশ্নের উত্তর আমি অনুমানে লিখছি না।
দ্রুত দেখে নিন
- ওয়ার্ক ভিসা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল ই-ভিসা। পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বৈধতা ২৩ নভেম্বর ২০২৫-এর পর শেষ।
- আবেদন করেন নিয়োগকর্তা বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি, Xpat Online System-এ।
- পৌঁছনোর ১৫ দিনের মধ্যে ই-ভিসা নিতে হবে।
- নবায়িত ওয়ার্ক ভিসা সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য হয়।
ধাপগুলো কী কী
- ওয়ার্ক পারমিট: মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (Ministry of Homeland Security and Technology) ওয়ার্ক পারমিট ও এন্ট্রি পাস দেয়। এই ধাপ নিয়োগকর্তার কাজ।
- মালদ্বীপে প্রবেশ: বৈধ এন্ট্রি পাস (ওয়ার্ক পারমিট) নিয়ে ঢুকতে হয়।
- ই-ভিসার আবেদন: পৌঁছনোর ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা প্রতিনিধি আবেদন করে ই-ভিসা নেন।
- অনুমোদন: অনুমোদিত হলে Xpat Online System-এ ই-ভিসার লোগো দেখা যায়, যেখানে থেকে ভিসা দেখা বা ডাউনলোড করা যায়।
আবেদন হয় যেভাবে (নিয়োগকর্তার দিক থেকে)
- মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের ওয়েবসাইটে ভিসা ট্যাব থেকে ওয়ার্ক ভিসা বেছে Xpat Online System খোলা।
- eFaas অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন।
- কোম্পানির আবেদনের ক্ষেত্রে “My Organization” থেকে ওয়ার্ক পারমিট দেখা।
- সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রোফাইলের ভিসা ট্যাবে Apply for Visa → New Request।
- প্রয়োজনীয় কাগজ জমা।
কী কী কাগজ লাগে
- ইমিগ্রেশনের ছবির মান মেনে সাম্প্রতিক ছবি।
- পাসপোর্টের তথ্যপাতার স্পষ্ট রঙিন কপি।
- প্রযোজ্য হলে অতিরিক্ত সহায়ক কাগজ (পেজে নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া নেই)।
ভিসার মেয়াদ ও নিয়ম
- ই-ভিসার মেয়াদ অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদের সমান।
- নবায়িত ওয়ার্ক ভিসা সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য হয়।
- ওয়ার্ক পারমিটের ফি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ভিসা অকার্যকর দেখাবে।
- ভিসায় থাকা পাসপোর্ট নম্বর আপনার বর্তমান পাসপোর্টের সঙ্গে মিলতে হবে। না মিললে পাসপোর্ট সাময়িকভাবে আটকে রেখে যাচাই হতে পারে।
খরচ ও কোটা নিয়ে কী জানি, কী জানি না
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের ওয়ার্ক ভিসা পেজে ফি, কোটা বা স্পনসরশিপের নিয়ম লেখা নেই। এগুলোর জন্য আলাদা স্পনসরশিপ পেজ আছে, নয়তো ইমিগ্রেশনের কল সেন্টারে (+৯৬০ ১৪৩৪) জানতে হয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় কেউ নির্দিষ্ট অঙ্ক বললে নিয়োগকর্তার চুক্তি, রশিদ আর বিএমইটির নিবন্ধন একসঙ্গে মিলিয়ে নিন।
প্রতারণার সতর্কতা
- “মালদ্বীপের ভিসা হয়ে গেছে” বলা এজেন্টের কাছে আগে ওয়ার্ক পারমিট ও এন্ট্রি পাসের কপি চান।
- নিয়োগকর্তার নাম ও কোম্পানি যাচাই করুন, মালদ্বীপের সরকারি পোর্টালে কোম্পানি আছে কি না দেখুন।
- পুরোনো স্টিকার-ভিসার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক হোন। এখন ই-ভিসাই একমাত্র বৈধ ওয়ার্ক ভিসা।
সাধারণ ভুল
- ১৫ দিনের সময়সীমা ভুলে যাওয়া।
- পাসপোর্ট নবায়নের পর ভিসার পাসপোর্ট নম্বর না বদলানো।
- ওয়ার্ক পারমিটের ফি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথচ ভিসা চালু ভাবা।
প্রশ্নোত্তর
মালদ্বীপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কে করেন?
নিয়োগকর্তা বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি।
ই-ভিসা কত দিনের মধ্যে নিতে হয়?
এন্ট্রি পাস নিয়ে পৌঁছনোর ১৫ দিনের মধ্যে।
মালদ্বীপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে?
সরকারি ওয়ার্ক ভিসা পেজে খরচ দেওয়া নেই। ইমিগ্রেশনের কল সেন্টার বা স্পনসরশিপ পেজ থেকে জেনে নিন।
স্টিকার ভিসা কি এখনো চলে?
পেজ অনুযায়ী পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা ২৩ নভেম্বর ২০২৫-এর পর বৈধ নয়।
মূল কথাগুলো
- আবেদন করেন নিয়োগকর্তা, কর্মী নন।
- এন্ট্রি পাসের পর ১৫ দিনের মধ্যে ই-ভিসা।
- খরচের অঙ্ক সরকারি পেজে নেই, তাই চুক্তি ও রশিদ ভালো করে দেখুন।
আরও পড়ুন
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬।
তথ্যসূত্র
- মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন: ওয়ার্ক ভিসা পেজ